“গয়নার বাজার এখন অনেক ভালো”

শেয়ার সোশ্যাল মিডিয়া

বার্তাবহ চাঁদপুর ডেস্ক: করোনার ধাক্কা কাটিয়ে জুয়েলারি মার্কেট এখন অনেক ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমিন জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় যখন দোকান বন্ধ ছিল তখন মনে হয়েছে আমাদের ছয়টা দোকানে ৫০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এত লোকের বেতন-ভাতা কোথা থেকে দেব। কিন্তু আমরা সমিতি থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন দোকান খোলা শুরু করলাম তখন দেখলাম বিক্রি কিছু কিছু করে বাড়ছে। এখন বেশ ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে। বড় বড় অর্ডারগুলো পাওয়া যাচ্ছে এখন। এক-দুই কোটি টাকার গয়নাও কিনছেন অনেকে। তবে একেবারে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবসা হচ্ছে। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরেও অনেকটাই বিক্রি বেড়েছে। আমার বিশ্বাস আগামী মাসেই পরিস্থিতি আরো ভালো হবে, আমরা স্বাভাবিক বিক্রিতে ফিরতে পারব। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘গয়নার বাজার এখন অনেক বড় হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান হয়েছে, আবার একই প্রতিষ্ঠানের অনেক দোকান হয়েছে। আমাদের বাইতুল মোকাররমে দুটি, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান-২, যমুনা ফিউচার পার্ক ও নিউ মার্কেটসহ মোট ছয়টি শোরুম রয়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে আরো বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আমাদের বিক্রি সব সময়ই ভালো ছিল। পুরো জুয়েলারি খাতের ২৫ শতাংশ ব্যবসা এখনো আমাদের দখলে রয়েছে। এই যে ব্যবসার সম্প্রসারণ, এর মূলমন্ত্র হলো ভালো কোয়ালিটি। অনেকে বলেন, আগে ভালো বিহেভিয়ার। কিন্তু আমরা আগে কোয়ালিটির দিকে মনোযোগ দিয়েছি। এর সঙ্গে ভালো বিহেভিয়ার ও সততা যোগ হয়েছে। অনেকে কনের জন্য গয়না পাঠানোর সময় লিখে দেন আমিন জুয়েলার্সের গয়না। অনেক পরিবারের সদস্য রয়েছেন, যাঁরা আমিন জুয়েলার্সের গয়না কিনতেই বায়না ধরেন। এ ছাড়া আমরা কাস্টমারের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখি। অনেকে আছেন খোলামেলা পরিবেশে গয়না দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অনেকে পরিবারের সদস্য নিয়ে গয়না কিনতে আসেন, তাঁরা যাতে ঘরোয়া পরিবেশে স্বস্তিতে দেখেশুনে কেনাকাটা করতে পারেন এ জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা, আলাদা করে দেখানোর ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো খেয়াল রাখি। এ জন্য এরই মধ্যে গুলশানের শোরুমটি আরো বড় করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন হাজার স্কয়ার ফিটের একটি ফ্লোর কেনা হয়েছে শোরুমকে নতুন করে সাজাতে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময় এই শিল্প খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হয়েছে। নামমাত্র সুদে এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো ব্যাংকগুলো তেলওয়ালা মাথায় তেল দিচ্ছে। যাঁদের অর্থ আছে, টাকার তেমন প্রয়োজন নেই তাঁদেরই বেশি করে দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো টাকা দেওয়ার আগে দেখছে, কারা টাকা ফেরত দিতে পারবে। আমাকে দেড় কোটি টাকা দিয়েছে। আমি চাইলে আরো দেবে। কিন্তু যেটা প্রয়োজন সেটা হলো ছোট ছোট দোকানগুলোকে বেশি করে দেওয়া। ঘুরে দাঁড়াতে তাঁদেরই টাকার বেশি প্রয়োজন।’

সোনার বাজারে ক্রেতাদেরও অনেক সুবিধা হয়েছে। তাঁরা এখন প্রতারিত হচ্ছেন কম। সচেতন থাকলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। আগে সোনায় খাদের কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। যে যেভাবে ইচ্ছা খাদ মিশিয়ে গয়না বিক্রি করত। এখন গয়নার গায়ে হলমার্ক করা থাকে। ল্যাবে ক্যারেট পরীক্ষা করে এই হলমার্কিং করা হয়। তবে হলমার্কের বিষয়টি এখনো অনেক ক্রেতা জানেন না বলে ছোট দোকানগুলোতে ঠকছেন। বর্তমানে ৬০ শতাংশ গয়নাই হলমার্ক করা থাকে। আমাদের মতো বড় দোকানগুলোতে হলমার্ক ছাড়া গয়না বিক্রি হয় না। এতে দেশের বাইরেও গয়না এক্সচেঞ্জ করা যাচ্ছে। দেশে এখন ডায়মন্ডের বাজারও অনেক বড় হয়েছে। তবে যে হারে ডায়মন্ডের দোকান হচ্ছে, আসলে কতটা আসল তাতে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বাজারে অনেক কম দামে ডায়মন্ড বিক্রি হতে দেখি। কিন্তু আসল এবং ভালো ডায়মন্ড এত কম দামে বিক্রি করা যায় না। অনেকে গুঁড়াগুলোকে একসঙ্গে করে আংটি বা ছোট গয়না বানিয়ে কম দামে বিক্রি করেন। ছোট ছোট গয়না হওয়ায় কাস্টমাররা এত যাচাইও করেন না। বড় হলে হয়তো যাচাই করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *