বাচ্চাদের অটোপাশ এবং বড়দের অসামাজিক ট্রল

শেয়ার সোশ্যাল মিডিয়া
লেখক: ফারাহ জাবিন শাম্মী

মনে পড়ে সবার সেই দিনগুলোর কথা? যখন দেশে করোনাভাইরাস একটু একটু করে আসতে শুরু করেছে সবে। বাচ্চাদের স্কুল তখনও খোলা।

আমরা অভিভাবকরা আতংকে দিন কাটাচ্ছি। এমনও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্কুল বন্ধ হোক বা না হোক আমরা আমাদের সন্তানদের এ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে নিজ দায়িত্বেই আর স্কুলে পাঠাবো না।

মৃত্যু আতংক তখন এমনভাবে আমাদের পেয়ে বসেছিল যে মনে হতো, একটা বছর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা না করলে বাচ্চাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাবেনা। আর যদি যায়ও তবুও অন্তত করোনার মরনকামড় থেকে রক্ষার চেষ্টাটা তো করতে পারব তাদের? ব্যাস, এটুকুতেই চলবে।

বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় একবছর হতে চলল। ঘরবন্দি টিনএজার বাচ্চাদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা পার করতে হচ্ছে ঘরে বন্দি থেকে। যা তাদের জন্য বিশাল একটা মানসিক চাপ।

কিন্তু কিছুই করার নেই। কারন সময়টা অন্য সময়ের মতোন নয়। এটা এমন একটা সময় যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা বিশ্ববাসী। জীবনে এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলামনা। এমন অস্থির সময়ের সবকিছুই একটু অস্বাভাবিক হবে এটাই স্বাভাবিক।

এইচএসসির রেজাল্টের অটোপাশ নিয়ে ট্রল হচ্ছে। হয়তো যারা এমন করছেন তাদের সন্তান কেউ অটোপাশ করতে হয়নি। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আপনাদের এমন ট্রল হাসি তামাশা ছোট মনে কি প্রভাব ফেলছে?

মহামারীর মতো এমন একটি সময়ে কি বাচ্চাদের পরীক্ষা হলে আপনারা খুশি হতেন? যদি পরীক্ষা দিতে গিয়ে একের পর এক বাচ্চা অসুস্থ হতো এর দায় কি আপনি নিতেন?

জেএসসি ও এসএসসির রেজাল্টের ভিত্তিতে মূল্যায়নের বিষয়ে বলছেন, “অনেকে এসএসসি’তে খারাপ রেজাল্ট করেও এইচএসসি’তে দূর্দান্ত রেজাল্ট করে।” হা হতেই পারে এরকম। তাতেই বা কি? আমাদের সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে, আমাদের বাচ্চাগুলো এখনও এ পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এটাই কি বড় পাওয়া নয়?

এ পদ্ধতিতে রেজাল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সমস্যা হবে বলছেন অনেকেই। তবে কথা বলুন ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে।

আর যদি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নাও পায় তবে তাদের বোঝান, এখানেই জীবনের শেষ নয়। দেশবিদেশের অনেক সফল মানুষই নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি। প্রতিভা থাকলে তা যে কোন জায়গাতেই বিকাশিত হতে পারে।

অটোপাশ বলে ব্যঙ্গ না করে বোঝান, তারা এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে যখন গোটা বিশ্বকে থমকে যেতে হয়েছিল। আপনার মিষ্টির ব্যবসা লাভজনক হলোনা বলে ছোট বাচ্চাদের মনটা আর ছোট করে দিবেন না। পাশে থেকে বরং সাহস দিন…!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *