বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রশ্ন

Spread the love

আমীন আল রশীদ, সাংবাদিক।। আমাদের দেশে প্রতিদিন করোনা শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়ছে। কিন্তু আমি বাসার আশপাশের দোকানদার, রাস্তার উপরে যারা সবজি ও ফল বিক্রি করেন, তাদের তো দেখি কোনো ফিজিক্যাল ডিসট্যান্স বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। অনেকে ঠিকমতো মাস্কও পরেন না। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুনিনি যে তাদের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন বা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অথচ তারা প্রতিদিন অগণিত মানুষের সংস্পর্শে আসেন। তাহলে ঘটনাটা আসলে কী ঘটছে?

টেস্টের সংখ্যা বাড়ছে বলে শনাক্ত বাড়ছে। কিন্তু মৃত্যুর হার ১০ শতাংশও নয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রেডিকশন এবং হুঁশিয়ারি অনুযায়ী তো এতোদিনে আমাদের লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত এবং কয়েক হাজার লোকের মরে যাওয়ার কথা। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সরকার কিছু তথ্য গোপন করছে। কিন্তু কতোজনের তথ্য গোপন করবে? আমার আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব কেউ মরে গেলে আমি কি সেটা গোপন রাখব? অন্তত সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় তো জানাব। সরকার যতই গোপন করুক, মানুষ কি চুপ করে থাকবে? সুতরাং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে এখন এই প্রশ্নটাই করা উচিত যে, বাংলাদেশে যেহেতু ওই অর্থে লকডাউন খুব একটা কার্যকর হয়নি, অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, ইউরোপ আমেরিকার মতো আমাদের দেশের মানুষ সেভাবে স্বাস্থ্য সচেতনও নয়, রাস্তায় বেরোলে ফিজিক্যাল ডিসট্যান্স মানাও অসম্ভব, তারপরও আমাদের শনাক্ত বা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা এত কম কেন? আপনাদের বিজ্ঞানীদের কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা আছে?

বলা হচ্ছিলো, আক্রান্তের ৪৫ তম দিন না আসা পর্যন্ত ভয়াবহতা বোঝা যাবে না। ৪৫ তম দিন তো গেলো। বলা হলো, ৬০তম দিন না এলে বোঝা যাবে না। ৬০ তম দিনও তো মনে হয় গেলো। কিন্তু লাখ লাখ আক্রান্ত আর হাজার হাজার মৃত্যু তো হয়নি। তার মানে আমাদের দেশে ফ্লুজনিত রোগ ইউরোপ আমেরিকার মতো বিধ্বংসী কখনো হয়নি, হবেও না। এটাই আশার কথা। অন্য দেশের সাথে তুলনা করলে হবে না।

তবে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে রাখতে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাকে বাধ্যতামূলক করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ। আমি অন্তত করোনা নিয়ে খুব বেশি আতঙ্কিত নই, তবে সতর্ক।

লেখকের ইমেইলঃ aminalrasheed@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.