ভ্রমণ গল্প: “রাতের আকাশ”

Spread the love

 

লেখক, নাজমুল আহমেদ: নদীতে তেমন ঢেউ নেই। আকাশে ছিল ভরাট চাঁদ। পরদিন পূর্ণিমা কিন্তূ খালি চোখে বোঝার সাধ্য নেই। নদীতে কিছু দুর পর পর ২/৩ টা করে নৌকা ভাসছে। মাছ ধরার জন্য না কিসের জন্য বুঝা যাচ্ছে না। মানুষ কেন জোছনা প্রেমী হয় তা যে কেউ একবার নদীতে ভরা জোছনা দেখলেই বুঝবেন আবার একবার সবাই মনে হচ্ছে জোছনা রাতের প্রেমে পড়লাম।পরম তৃপ্তিতে সবাই উপভোগ করছি । হঠাৎ সিধান্ত নিলাম বরিশাল যাবো কখনও যাওয়া হয় নাই বাড়ি থেকে রওনা দিলাম ঠিক ৭ টায়। এক এক করে চারজন এক সাথে হলাম, সি এন জি করে চাঁদপুর,লঞ্চঘাট ক্যাবিন বা চেয়ারে যাবো না জোনাকির আলোতে সাদে বসেই বরিশাল যাবো ভাবলাম কিন্তু এত মানুষ একদম পিছনে। এত গরম লাগছিলো বসতেই পারলাম না। একটু পর শাকিল হৃদয় উঠে গেলো আমি, শোভন মাথার নিচে ব্যাগ রেখে একটু ঘুমানোর ট্রাই করি কিন্তু আসছিলো না।

আমরা চার বন্ধু (আমি হৃদয় শাকিল শোভন) এক সাথে হলেই কোনও পরিকল্পনা ছাড়া হুটহাট ঘুরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। এরপর হৃদয়, শাকিল এসে বললো চল ভালো জায়গা পেয়েছি আর দেরি না করে পিছন পিছন ছুটলাম। যাক! মনের মত জায়গা পেয়ে আনন্দে ফোন বের করলাম সারেং সাহেব এখানে ফোন চাপা যাবে না বলে হুশিয়ার করে দিলো। কারণ আমরা চালকের সামনেই বসে ছিলাম লাইটের আলোতে সমস্যা হয়।

এখন জোছনার আলোয়, বাসা থেকে নুডুলস রান্না করে নিয়ে গিয়েছিলাম। যাক, রাতের খাবার চারজন মিলে ওটাই খাই শেষ এপাস-ওপাস কর‍তে করতে রাত তখন একটা। টিকেট মাস্টার বললো, যারা বরিশাল যাবেন নিছে চলে যান।

ওমা! আমরা ত অবাক ভাবলাম সকালে নামবো এখন এত রাতে কোথায় যাবো? যাক কি আর করার! নামতে ত হবে দেরি না করে নেমে গেলাম হটাৎ হৃদয় বললো, চল কুয়াকাটা যাই।

ঐ খানে যেতে যেতে সকাল হয়ে যাবে। যাক, আমি আবার কোনও কিছু তে না নাই! আমাদের ভেটো শাকিল হা হা হা! আসলে একটু কিপ্টে ত তাই মজা করে ডাকি, উনিও রাজি হয়ে গেলো। আহা আর পায় কে কুয়াকাটা যেতে হলে লঞ্চঘাট থেকে আমতলার মোড় যেতে হবে। হৃদয় গাড়ি ঠিক করতে গেলো, আমাদের ভেটো শাকিল চল হেটে যাই! লঞ্চঘাট থেকে আমতলার মোড় সিন এন জি তে প্রায় ২০ মিনিটের মত লাগে রাস্তায় কাজ করছে। দেখলাম, অনেকটা পথ সি এন জি তে যাওয়ার পর ভেটো শাকিল কে জিগাস্যা করলাম, একটু খুচা মেরে কিরে হেটে যাবি না!! হাসি দিয়ে চুপ করে রইলো।

যাই হোক, নামলাম এখন বাসের অপেক্ষা রাত তখন প্রায় দুইটা। একটু ছবি তুলে নিলাম এই ফাকে! গাড়ি আসলো উঠে পরলাম হটাৎ কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি বুঝতে পারি নাই। হটাৎ সুপারভাইজার সাবের ডাক, শুনে চোখ মেললাম অবশেষে কুয়াকাটা!!

এই খানে নেমে আরেক কান্ড, এ টানে ও টানে মনের মত হচ্ছে না একটাও। সব শেষ ইলিশা পার্কে রুম নিলাম। একদম মনের মত হলো দাম ও কম পরিবেশ অনেক সুন্দর। সবারি পছন্দ হলো।

এবার বিচে যাওয়ার পালা। যাওয়ার পথেই সকালের নাস্তা। এখানেও চার বন্ধুর একটু খুনসুটি সাগরে নেমে লজ্জায় পরে গেলাম। এখানে টুরিস্ট পুলিশ আছে, নামেই কারণ তাদের চোখের সামনেই চলছে ইভটিজিং দেখেও দেখছে না ফ্যামিলির সাথেও নিরাপদ না। আমরা চলে আসলাম।

এবার কাঁকড়াচর লেবুচর যাবো ঐ খানেই দুপুরেরর খাবার খাবো। সেই ভাবেই চলা দুইটা বাইক ঠিক করে চারজন চলে গেলাম। লেবুচর ঐ খানে নিজেরদের ইচ্ছে মত মাছ কিনে রান্না করতে দিয়ে আসে। পাসে একটু ঘুরে দেখলাম,ঝাউবাগান সুন্দরবন কাঁকড়াচর অসাধারণ মনমুগ্ধকর জায়গা। সাগরের হতাশা এখানে কাটিয়ে উঠলাম। সত্যি অসাধারণ, এবার ফিরার পালা, দুপুরের খাবার খেয়ে বাইক দিয়ে সাগরের পাস দিয়ে আহা!! এক পাসে রাস্তা অন্য পাসে সাগর বলে বোঝানো যাবে না এই খানে না আসলে।

কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির চরের বাঁক থেকে সূর্যোদয় আর কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকতে লেবুর বনের পাশে তিন নদীর মোহনা সূর্যাস্ত দেখার সবচেয়ে ভাল জায়গা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়ে সৈকত লাগোয়া দীর্ঘ নারিকেল গাছের সারি এখন নেই বললেই চলে। তার পরিবর্তে কিছু তালগাছ ও ঝাউগাছ এখন সৈকতের শোভা বাড়াচ্ছে। তবে সৈকতে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা আর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ গাছগুলো সৌন্দর্য আলাদা।

কুয়াকাটা শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট নয়, একটি চলমান ডায়রি। পরিকল্পনাহীন ভ্রমন সবসময়ই স্বরনীয় হয়ে মনের ডায়েরিতে থাকবে আজীবন।

সাবধানতা- ফ্যামিলি নিয়ে সাগরে না নামাই ভালো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.