গ্রামীণফোনে যুক্ত হলো ১৬ লাখ গ্রাহক

Spread the love

বার্তাবহ চাঁদপুর ডেস্ক:  চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ হাজার ৬২১ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ১৬ লক্ষ নতুন গ্রাহকযুক্ত হওয়ায় এখন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ কোটিতে, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। মোট গ্রাহকদের মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৪ দশমিক ৬১ কোটি বা ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ, ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, গ্রাহকদের উচ্চ গতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান এবং কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে গ্রামীণফোন, তৃতীয় প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন স্পেকট্রাম সংযুক্ত অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে, আমাদের বাজার পরিচালন পদ্ধতি এবং গ্রাহকদের সুবিধা অনুযায়ী অফার প্রদানের ফলশ্রুতিতে গ্রাহকরা গ্রামীণফোনকে তাদের পছন্দের নেটওয়ার্ক হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে আমাদের নেটওয়ার্কে ২৪ লক্ষ ডেটা ব্যবহারকারীকে যুক্ত হয়েছেন, যার ফলে ডেটা ব্যবহারকারীর বছর প্রতি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৯.৭ শতাংশে। পাশাপাশি, গ্রাহকদের কাছে ভয়েস এবং ডেটা বান্ডেল প্যাক নিয়ে আসার দিকে মনোনিবেশ করার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের মধ্যে ভয়েস ব্যবহারকারী থেকে ডেটা ব্যবহারকারীতে রূপান্তরের উচ্চ হার লক্ষ্য করেছি। এ সময়ে ফোরজি ডেটা ব্যবহারকারী রুপান্তরের হার বছর প্রতি ৫৫ শতাংশে বেড়েছে যা ব্যবহৃত ডেটার পরিমাণ গত বছরের চাইতে ৫২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।

আজমান বলেন, সমাজের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে আমরা উন্নত মোবাইল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং দেশে উন্নতমানের নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আমরা আমাদের অপারেটিং মডেলগুলোর আধুনিকীকরণ এবং অটোমেশন সমন্বয়করণ, ভবিষ্যতের জন্য যথাযোগ্য দক্ষতার বিকাশ এবং উন্নত নেটওয়ার্ক সক্ষমতার উদ্দেশ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, দক্ষতা, সক্ষমতা এবং সরঞ্জাম সমূহের সম্মিলিত উপযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে সুদৃঢ করবে, কানেক্টিভিটি পার্টনার হিসেবে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

কঠোরতর লকডাউনের কারণে তৃতীয় প্রান্তিকের শুরুটা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলো, কিন্তু কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কমতে শুরু করার সাথে সাথে অনেক বিধিনিষেধ শিথিলও করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, আমরা পার্টনারদের সাথে নিয়ে নেটওয়ার্ক অপারেশন অব্যাহত রেখে এসেছি, যা আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানান আজমান।

তিনি বলেন, গ্রামীণফোন এর সিএফও ইয়েন্স বেকার। “তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বছরপ্রতি মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩,৬২১ কোটি টাকা যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশে বেশি। একই সময়ে বান্ডেলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে সাবস্ক্রিপশন এবং ট্রাফিক রাজস্ব ১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রান্তিকের সমাপ্তিতে আমাদের ইবিআইটিডিএ (পরিচালন আয়) মার্জিন ৬৩ দশমিক ৩শতাংশ। এই সময়ের জন্য কর পরবর্তী নিট মুনাফা ২৩ দশমিক ৬শতাংশ মার্জিনসহ ৮৫৬ কোটি টাকা।

২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন লিমিটেড নেটওয়ার্ক কাভারেজের জন্য ১৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গ্রামীণফোনের মোট সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮,০২৩। প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে কর, ভ্যাট, শুল্ক, ফি, ফোরজি লাইসেন্স এবং স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ জাতীয় কোষাগারে মোট ৭,৯২০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে, যা এর মোট রাজস্ব আয়ের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.