বেসামাল দ্রব্যমূল্য

Spread the love

বার্তাবহ চাঁদপুর ডেস্ক: বাজারে চাল-ডাল-তেল-আটা-পেঁয়াজসহ প্রতি মুহুর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের। ফলে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে সকল ধরনের দ্রব্যমূল্যের দাম।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে আসা ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পারায় এক ধরনের বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

এদিকে, সবগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘ লকডাউন থাকায় সাধারণ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আর ঠিক এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের ঝাঁজ কিছুটা কমলেও বেড়েছে মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রয়লারের দাম ছিলো ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। এখন ব্যবসায়ীরা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন ফার্মের মুরগি। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়।

পাশাপাশি বেড়েছে সয়াবিন তেল ও চিনির দাম। মাস ব্যবধানে সয়াবিন তেল লিটারে বেড়েছে ৭ টাকা। আর চিনির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকা করে।

জানা গেছে, পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শুল্ক কমানোর পরেও বাজারে দামের কোন প্রভাব পড়ে নাই।

কারওয়ান বাজার আল্লাহর দান ডিপার্মেন্টাল স্টোরের কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন কোনো না কোনো না পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাসের ব্যবধানে দেশি মসুর ডাল কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫৩ টাকা লিটার। আজকে (শুক্রবার) বিক্রি হচ্ছে ১৬০টাকা লিটার।

তিনি বলেন, প্রতিদিন দাম বাড়ায় ক্রেতাদের সাথে আমাদের বাগ-বিতণ্ডা হচ্ছে। তারা ভাবছে আমরা দাম বৃদ্ধি করছি। জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম বাড়ায় আমাদের কেনা-বেচা অনেক কমে গেছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সাননিউজকে বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় আমরা এখন খাওয়া-দাওয়া অর্ধেক করে ফেলছি। প্রতিদিন দাম বাড়ছে, এই ব্যাপারে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নাই।

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, অপেক্ষা করেন আর কয়দিন পর দেশে দুর্ভিক্ষ লাগবে। আমাদের না খেয়ে মরা লাগবে।

এদিকে মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগীর দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, সাথে বেড়েছে সোনালি মুরগির দামও।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. ইলিয়াস সাননিউজকে বলেন, এই বাজারে দীর্ঘ ২০ বছর দোকান করছি। কখনো এমন দাম বাড়ে নাই মুরগির। প্রতিদিনই বাড়ছে মুরগির দাম। বাজারে যোগান কম থাকায় দাম এখন বাড়তি দাম। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ব্রয়লার মুরগি ছিলো ১৩৫ টাকা, সোনালির দাম ছিলো ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।

অন্যদিকে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা করে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতল মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুই শ ছুঁই ছুঁই। টেংড়া বিক্রি হচ্ছে ৫’শ টাকা কেজি ধরে।

বাজারে এসেছে আগাম শীতের সবজি, তবে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে। শিমের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা জোড়া। টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে।

বাজারে আসা ক্রেতা তানভীর আহমেদ সাননিউজকে বলেন, মুরগির দাম তো কমছেই না। মাসে বেতন পাই একবার, জিনিসপত্রের দাম বাড়ে দুইবার। প্রতি মাসে বেতন না বাড়লেও বাড়তি দামে বাজার করতে হচ্ছে। এভাবে বাঁচা দায়।

কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সভাপতি গোলাম রহমান সাননিউজকে বলেন, সরকারি পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা বাজার নিয়ন্ত্রণ বড় বাধা। অতি জরুরি পণ্য যদি সরকার আমদানি করে বাজারে সরাসরি বিক্রি করতো তাহলে বাজার এমন বেসামাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

সূত্রঃ সান নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.