“এই জীবনে”

Spread the love

।।ফারহানা ইসলাম।।

কাঠঠোকরার ঠোঁটের মতো স্বপ্নজাল বুনি
ভাবি এইতো আর কিছুক্ষণ তারপরই পৌঁছে যাবো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে
যেমনটা পাখিটি ঠুকরে তার বাসা তৈরি করে নিপুণতায়।
অথচ বাস্তবতা শেখায় ভিন্নকিছু।
এখানে কাকের বাসার ন্যায় অনেককিছুই অস্তিত্বহীন।

তারপর যখন চলতে চলতে ব্যস্ত রাস্তায় পেছন থেকে কারো পদচিহ্নের আওয়াজ কানে পৌঁছে ভাবি এই বুঝি কেউ কুশল বিনিময় করতে এগিয়ে আসছে। ক্ষণিক পরেই বুঝতে পারি তাকে যেতে হবে অনেকদূর, দূরপাল্লার বাস ধরতেই তার ছুঁটে চলা।কারো ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুখ দুঃখের আদানপ্রদানের আলোচনায় কেউ পাদতলে রাস্তার ধূলি উড়ায় না নিশ্চয়।

যদি সময় থমকে যেত কিছুকালের জন্য তবে তা অনেকের জন্যই সুখময় হতো।অপরদিকে একটি ব্যথিত হৃদয় তার বিপরীত। সময় বয়ে চলে।আজ যার ভাগ্যে সুখ বিরাজমান কাল অন্যের কাছে সেই সুখ থাকবে।সময়ের ব্যবধানে মানুষের সুখদুঃখেরও অদলবদল হয়।এই ভেবেই কিছু চিরদুঃখী মানুষ সান্ত্বনা খোঁজে।

অন্ধকার অপছন্দ করা মানুষটাও ঘুমঘোরে অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে। তখন অন্ধকারই তৃপ্তি আনে নিদ্রায়।অথচ জাগ্রত হলেই অকৃতজ্ঞের রূপধারণ করে।যাদের মনের মধ্যে সর্বদা অমাবস্যায় অন্ধকারাবৃত তারাই আঁধার ঢাকতে আলোকরশ্মির খোঁজ করে। আবার কিছু মানুষ সেই আঁধারে মুখ লুকায় চোখের অশ্রু বিসর্জনে,তাদের কাছে তখন নিশিই স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস।

যোগাযোগের সহজলভ্যতায় সব সম্পর্কগুলো এখন প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়ার পূর্বপর্যন্ত সম্পর্কের কদর ছিলো ব্যাপক।মোবাইলের ডাটা অফ করলেই যে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় সেই সম্পর্কই এখন প্রিয় হয়ে উঠছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।অথচ ব্যক্তিগতজীবনে কতো কাছের মানুষ প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্ছে একটু খোঁজখবর আদানপ্রদানের অভাবে। নতুনত্বের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুতহারে যতই বাড়ুক কিছুলোক সর্বকালে পুরোনত্বেই বিশ্বাস রাখে।

সব ছেড়ে ছুঁড়ে যখন কেউ পালিয়ে যেতে ইচ্ছে পোষে তখন তার কোথাও কারো কাছে ঠাঁই মেলে না দুদণ্ড,পিছুটান পিছু ছাড়তে চায় না।
একটু মুক্তি,প্রশান্তির খোঁজে একটি অস্তিত্ব নিজের মধ্যেই সর্বক্ষণ কীভাবে ওতপেতে থাকে তা ঐ সর্বহারা ছাড়া আর কে জানবে!

উদারমনে যে দু-হাতভরে ভিক্ষুককে অন্নের যোগান দেয় সেও কারো কাছে কাঙ্গাল সাঁজে একটু প্রণয়ের দাবি নিয়ে।এতদা সত্ত্বেও সে কিন্তু বেলা ফুরিয়ে এলে শূণ্য হাতে বাড়ি ফিরে দরজায় খিল দিয়ে দেয়,না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই রাত্রিযাপন করে।

তুচ্ছার্থক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনাহীন শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর জীবনে শান্তি থাকে না কখনোই। তুচ্ছ কিংবা নিতান্তই ছোটখাটো বিষয়গুলোই তখন মুখ্য হয়ে ওঠে জীবনে।অপরদিকে যারা অশান্তির কারিগর তারা অন্যের সুখ বিনষ্টে তৃপ্ত থাকে ভীষণরকমভাবে।

সময়তো ঠিকই যাচ্ছে চলে কতনা অপ্রিয় অজুহাতে,
কেউ আছে স্বর্গীয় সুখে,কেউবা হতাশ নিয়তিতে।
তবুও ভালো থাকুক সবাই,ভালো থাক আমার আশপাশ,
তাদের ভালোয় আমারও ভালো
তাদের ভীড়েই যে আমার বসবাস।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *