১০ লাখ টন আবর্জনা পরিষ্কার

Spread the love

বার্তাবহ চাঁদপুর ডেস্ক: আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ঘনবসতি শহর ঢাকা। আর সেই শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই শহরের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও ভোগান্তি দূরীকরণে প্রতিনিয়ত কাজ করছে ডিএসসিসি। বাসিন্দাদের মহা-যন্ত্রণা ‘মশা ও জলাবদ্ধতা’ নিরসনে ছয় মাসে বিভিন্ন খাল ও বক্স কালভার্ট থেকে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আবর্জনা পরিষ্কার করেছে ডিএসসিসি। খালের আবর্জনা পরিষ্কারের কারণে নগরবাসী সুফলতা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংস্থাটির সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এসব ওয়ার্ডে অবস্থিত খাল ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের সময়ে দেখা যায়, খাল ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের সময়ে পলিথিন, প্ল্যাস্টিকের বোতল, জাজিম, সোফা, টেলিভিশনের খোলস, ভাঙ্গা ফ্রিজ, সুটকেস, বালিশ, ডাবের খোসা ইত্যাদি আবর্জনা পাওয়া যায়।

ডিএসসিসির তথ্য মতে, ডিএসসিসির ১০৯ দশমিক ২৫১ বর্গকিলোমিটারে ৭৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস। এই জনঘনত্ব অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক। বিশ্বের আর কোনো অংশের জনপদের মানুষ কখনো এত ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে বসবাস করেনি।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খাল ও বক্সকালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এরই অংশ হিসেবে ডিএসসিসির আওতাধীন শ্যামপুর, মান্ডা, কালুনগর, জিরানী, বাসাবো, কমলাপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সংলগ্ন খাল, খিলগাঁও ঝিল, জুরাইন কবরস্থান সংলগ্ন খাল, পান্থপথ বক্স কালভার্ট, সেগুন বাগিচা বক্স কালভার্টের আবর্জনাসহ আরও কয়েকটি খাল ও বক্স কালভার্টের আবর্জনা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। খালের আবর্জনা পরিষ্কার করায় জলাবদ্ধতা কিছুটা দূর হয়েছে এবং শীতের মৌসুমে মশার উপদ্রব কমেছে।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ চলমান। একইসঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ হচ্ছে। এমতাবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার খাল ও বক্স কালভার্টের আবর্জনা পরিষ্কার, সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ সব দখল উচ্ছেদ করে জায়গাগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করায় সম্প্রতি মুষলধারে বৃষ্টিতে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়েছে। আবর্জনা ভাগাড়ে পরিণত হওয়া খালে প্রাণ ফিরিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার প্রকোপ বাড়ে। এবার খালের বর্জ্য অপসারণে শুষ্ক মৌসুমে মশা প্রকোপ কম দেখা যাচ্ছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস খাল পরিষ্কার কার্যক্রম ঢেলে সাজিয়েছেন। নগরবাসীর মহা-যন্ত্রণা এডিস ও কিউলিক্স মশা নিয়ন্ত্রণে খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে জোর দেন। খালগুলো পরিষ্কারের পর পানির প্রবাহ ঠিক করেন। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরও মানুষ সচেতন হয়নি। বিভিন্ন খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শ্যামপুরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শ্যামপুর খালের পানি আগে অনেক নোংরা ছিল। আবর্জনা পরিষ্কারে দুর্গন্ধ দূর করার পাশাপাশি এখন কিউলিক্স মশার প্রভাব ও বংশবিস্তার কমেছে। মশার ওষুধ ছিটানোর কাজের তদারকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিঃসচিব) ফরিদ আহাম্মদ আরটিভি নিউজকে বলেন, ডিএসসিসির আওতাধীন মূলত ৪টি খাল, এর আয়তন ১৫ কিলোমিটার। খালগুলোর আবর্জনা পরিষ্কার করেছি। দেখা যাচ্ছে, খালগুলোর কিছু কিছু জায়গায় মানুষ আবারো আবর্জনা ফেলছেন। ফলে ১৫ নভেম্বর থেকে আবারও খালের আবর্জনা পরিষ্কারে মাঠে নামবে সিটি করপোরেশন।

খাল ও বক্স কালভার্টে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের কারণে এবার ডিএসসিসি এলাকায় কিউলেক্স মশার উপদ্রব কম বলে মনে করছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

একই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের আরটিভি নিউজকে বলেন, খালে আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রম চলমান। কারণ মানুষ আবার ভাসমান আবর্জনা খালে ফেলছেন। হাজারীবাগ খালুনগর খালের পাশ দিয়ে ৮ ফুট উঁচু বেঁড়া দেওয়া হয়েছে, এরপরও মানুষ খালে আবর্জনা ফেলছেন। আবর্জনা ফেলা দূরীকরণে সিটি করপোরেশনকে কঠোর হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খালের আবর্জনা পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জনবলের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ে জনবল নেওয়া হয়েছিল। কেজিতে আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টন আবর্জনা পরিষ্কারে দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর খালগুলো সব সময় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে থাকে। ফলে ময়লা আবর্জনায় প্রতিনিয়তই মশার জন্ম নেয়। একেকটি খাল বা জলাশয় যেন মশার উৎপাদন কেন্দ্র। খালগুলো স্থায়ীভাবে পরিষ্কার রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর হতে হবে। এছাড়া আগের মতো প্রতি বছর সিটি করপোরেশন খাল পরিষ্কার করবে আর নগরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিষ্কার করে খুব একটা লাভ হবে না।

খালের আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরটিভি নিউজকে বলেন, মশার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে খাল ও বক্সকালভার্ট পরিষ্কার করায় কিছুটা হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মশা কমছে। এটি বাস্তবায়নে ওয়ার্ডভিত্তিক নগর পরিকল্পনা করতে হবে, এতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব কমবে।

ডিএসসিসি বছরের পর বছর খাল ও বক্স কালভার্টের আবর্জনা পরিষ্কার করবে, আর স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার আবর্জনা ফেলবে, এটি হতে পারে না। এজন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ বিশ্বের যেকোনো নগর ব্যবস্থাপনায় মানুষকে শুধু উৎসাহ দিয়ে হয় না। কিছু কিছু সময় মনিটরিং ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হয় বলে মনে করেন এই নগরপরিকল্পনাবিদ।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনকে খাল হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও বক্স কালভার্টের দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার পরপরেই বর্জ্য ও দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করে ডিএসসিসি।

সূত্র: আরটিভি নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *